কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লার বাঙ্গরা বাজার থানার পুলিশের একটি বিশেষ অভিযানে গতকাল বুধবার (২০ আগস্ট ২০২৫) বিকেলে ৩০ কেজি গাঁজা এবং একটি সিএনজি চালিত অটোরিক্সা জব্দ করা হয়েছে। এ সময় চারজন মাদক কারবারিকে আটক করা হলেও আরও দুইজন পলাতক রয়েছে।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই (নিঃ) নিংওয়াই মারমা এর নেতৃত্বে একটি দল গতকাল বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে বাঙ্গরা বাজার থানাধীন শ্রীকাইল ইউনিয়নের সোনাকান্দা পশ্চিম পাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মফিজ মিয়ার “মা ভ্যারাইটিজ স্টোর” এর সামনে ঘোড়াশাল-শ্রীকাইল বাজারগামী পাকা রাস্তায় একটি সিএনজিকে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশির সময় সিএনজি থেকে ৩০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থলেই চারজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার করা গাঁজা ও সিএনজিটি উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে জব্দ তালিকার মাধ্যমে জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন:
১. বোরহান (৩২), পিতা: নুর ইসলাম, সাং: হিরাকাশী, পেকপাড়া, ২নং আকুবপুর ইউপি
২. মোঃ কাউছার (২৮), পিতা: জহর মিয়া, সাং: হায়দরাবাদ, ফরিদ হাজীর বাড়ি, ৩নং আন্দিকুট ইউপি
৩. মোঃ ইসমাইল মিয়া (৩২), পিতা: সেন্টু মিয়া, সাং: হায়দরাবাদ, সফিক ডাক্তারের বাড়ি, ৩নং আন্দিকুট ইউপি
৪. মোঃ মাছুম (১৯), পিতা: ছাহেদ, সাং: হায়দরাবাদ (সাক্কাডি), কাদির মাস্টারের বাড়ি, ৩নং আন্দিকুট ইউপি
তারা সবাই কুমিল্লার বাঙ্গরা বাজার থানা এলাকার বাসিন্দা। গ্রেফতারকৃত আসামিদের আজ (২১ আগস্ট ২০২৫) কুমিল্লা জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।
পলাতক দুই আসামি হলেন:
৫. সিয়াম (১৯), পিতা: অজ্ঞাত, সাং: সোনারামপুর
৬. মোঃ দেলোয়ার (৪২), পিতা: মোঃ সেলিম, সাং: হায়দরাবাদ
পুলিশ জানিয়েছে, “এই দুইজন আসামি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
পুলিশের অভিযানে উদ্ধারকৃত আলামত ৩০ কেজি গাঁজা ও একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা, যা মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত হয়েছিল।
ঘটনার পর এসআই/নিংওয়াই মারমা থানায় ফিরে এসে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ধারা ৩৬(১) সারনির ১৯(গ)/৩৮/৪১ এর অধীনে মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর: ১৪, তারিখ: ২০/০৮/২০২৫। মামলার তদন্তভার প্রদান করা হয়েছে এসআই বিশ্বজিৎ দাশ এর নিকট।
বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, “এটি আমাদের নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ। সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে মুক্ত রাখতে আমাদের এই অভিযান চলমান থাকবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা এ ধরনের অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।